ঐক্য, সংগ্রাম, মর্যাদা ও মুক্তির পতাকা হাতে শ্রমিকের রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে ইস্কাটন নেভি কলোনিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
নতুন সংগঠনের আহ্বায়ক হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব রিয়াজ মোরশেদ, এবং মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কাগজে সই করছে। তারা জাতীয় ঐক্যের নামে আসলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে দিনে কিছু দল প্রতারণার সনদে সই করছে, সেই দিনে জাতীয় শ্রমিক শক্তি রাজপথে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে। আমরা জানি— রাজপথের শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। ইনশাআল্লাহ শ্রমিক শক্তিও জয়ী হবে।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন শ্রমিকরা। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নেমে বহু শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, তবু শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও শ্রম কমিশন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা শ্রম সংস্কারের বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে, অথচ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পাশাপাশি অর্থনৈতিক রূপান্তরও জরুরি।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “যারা শ্রমিকদের শোষণ করেছে, লুটপাট করেছে, সেই মাফিয়ারা আজও বিচারের বাইরে থেকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “জাতীয় শ্রমিক শক্তি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালাবে। সরকারি থেকে বেসরকারি—সব খাতেই শ্রমিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয়ভাবেও এই বৈষম্য চলমান।”
শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গত কয়েক বছরে হাজারো শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে, কিন্তু হত্যার দায়ীদের বিচার হয়নি। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি জানান, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নই হবে জাতীয় শ্রমিক শক্তির অন্যতম লক্ষ্য।
আপনার মতামত লিখুন :