যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি যেন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় আবারও ইসরায়েলের হামলা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৫, ২:৩১ অপরাহ্ন

গাজায় আবারও আগুন ঝরাচ্ছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি যেন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে নতুন করে শুরু হওয়া বোমা বর্ষণে। তুফাহ এলাকার আল-শাফ পাড়ায় ভোররাতে দুই দফা বিমান হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যারা নিজেদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি দেখতে ফিরছিলেন। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স সংস্থা আলজাজিরাকে জানায়, নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল।

ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্য দাবি করছে, শুজাইয়া এলাকায় “হলুদ সীমারেখা” অতিক্রম করে তাদের দিকে এগিয়ে আসা সশস্ত্র ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তিরা সেনাদের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছিল। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” আসলে কোথায়—তা কেউ জানে না। গাজার বাসিন্দা সামির (৫০) বলেন, “আমাদের চারপাশ ধ্বংসস্তূপে ভরা। মানচিত্রে রেখা দেখা যায়, কিন্তু মাটিতে তার কোনো চিহ্ন নেই।”

গত ৪ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্রে এই ‘হলুদ সীমারেখা’ নির্ধারণ করা হয়। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী তখন সেই রেখার পেছনে সরে যায়। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে বারবারই ভাঙছে সেই প্রতিশ্রুতি।

গাজা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গত রোববারের বিমান হামলাতেই নিহত হয়েছেন ৪২ জন—যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতেরা এখন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে গাজার আকাশে এখনও ধোঁয়ার রেখা, আর মাটিতে কান্না থামছে না। যুদ্ধবিরতি যেন সেখানে শুধু কাগজের শব্দ, বাস্তবে এক অশেষ যুদ্ধের প্রতিধ্বনি।