দীর্ঘ ৯ মাস পর খুলছে সেন্ট মার্টিন, পর্যটকদের জন্য ১২ নির্দেশনা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকরা আবারও দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে এবার কঠোরভাবে মানতে হবে সরকারের ১২টি নির্দেশনা। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ রক্ষায় এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যটকবাহী জাহাজ চলবে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে। তবে আইনগত কারণে ইনানী থেকে সেন্ট মার্টিনে সরাসরি যাতায়াত নিষিদ্ধ।

🔹 ১২ নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবে না।

  • পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে—কিউআরবিহীন টিকিট অবৈধ বলে গণ্য হবে।

  • নভেম্বর মাসে কেবল দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে; রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।

  • ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিত পরিসরে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে, তবে ফেব্রুয়ারিতে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

  • রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কিংবা কেয়া বনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ।

  • কাছিম, প্রবাল, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (চিপস প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, ছোট বোতল ইত্যাদি) বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

  • পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নাজুক প্রতিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে, এবং এটি দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আদর্শ গন্তব্যে পরিণত হবে।