সশস্ত্র বাহিনী দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে শুক্রবার ঢাকার সেনাকুঞ্জে উপস্থিত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে “সদা প্রস্তুত” থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি সারা দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে হতাহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের নিহতদের স্মরণ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় জাতি। তবু যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি অপরিহার্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক রাষ্ট্র সংস্কারের সময়ে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জন করেছে।
আগামী নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করবো।”
তিনি স্বীকার করেন যে অতীত সরকারের সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা যথাযথভাবে উন্নত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ঘাটতি পূরণের কাজ করছে বলেও জানান।
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সমন্বিত অভিযানের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, সেনা, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের যৌথ লড়াই বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।
তিনি ‘অপারেশন জ্যাকপট’, ‘কিলো ফ্লাইট’–এর মত দুঃসাহসী অভিযানগুলোর ভূমিকা স্মরণ করেন এবং বলেন, এসব অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
তরুণদের সৃজনশীলতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই ২০২৪–এ ছাত্র–জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা “নতুন বাংলাদেশের” সুযোগকে কাজে লাগানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—তাদের ত্যাগকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করতে।”
আপনার মতামত লিখুন :