ভূ-প্লেটের চাপ বেড়েই চলেছে, ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমে গেছে


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২২, ২০২৫, ৮:০৭ অপরাহ্ন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্প বাংলাদেশে বড় ধরনের কম্পনের আগাম সংকেত দিচ্ছে। তাদের মতে, ভূগর্ভে চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যা ৬ থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ তিনটি বড় ভূ-প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত—আসাম ফল্ট, ডাউকি ফল্ট ও মিয়ানমারের সেগাইং ফল্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফল্টগুলোর চ্যুতি দিনদিন বাড়ছে, ফলে ভূগর্ভে শক্তি সঞ্চয় ত্বরান্বিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে বার্মা প্লেটের নিচে প্রবেশ করছে। জিপিএস পরিমাপ অনুযায়ী বছরে ১–১.৫ মিটার সংকোচন হচ্ছে। এ অঞ্চলে ৮.২–৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তি ইতোমধ্যেই জমে আছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী মন্তব্য করেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পের গভীরতা ১০ কিলোমিটার ও স্থায়িত্ব ২০ সেকেন্ড ছিল। এটি ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের সংকেত। ইতিহাস দেখায়, ১৮৬৯, ১৮৮৫, ১৮৯৭ ও ১৯১৮ সালের বড় ভূমিকম্প এই অঞ্চলের ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে।

এবারের উৎপত্তিস্থল দেশের ভেতর—নরসিংদীর মাধবদী, ঢাকার মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত কাছে বড় মাত্রার কম্পন ভয় বাড়িয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। মধ্যাঞ্চল (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার) মধ্যম ঝুঁকিতে এবং খুলনা ও সাতক্ষীরা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ছোট ছোট কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। নাগরিকদের ভবন নিরাপদ কিনা তা যাচাই করতে এবং জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।