রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তে ছাই হয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার ঘর। আগুন নেভার পর শীত, ক্ষুধা ও আশ্রয়হীনতার কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
বুধবার সকালে বস্তিজুড়ে দেখা যায় পোড়া কাঠ, টিন আর ধ্বংসস্তূপের স্তর—তার মধ্যেই বাঁচার উপায় খুঁজছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কোথাও ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়, কোথাও ভিজে কাপড় শুকানোর চেষ্টা। শিশু ও বয়স্কদের দুর্দশাই সবচেয়ে নজরে পড়ে।
শাফিয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, “সব পুড়ে গেছে। রাতটা না খেয়ে, কম্বল ছাড়া কাটাতে হয়েছে।” রিকশাচালক আব্দুল করিমের অভিযোগ, “সারারাত পরিবার নিয়ে বাইরে ছিলাম। ছবি তো সবাই তোলে, কিন্তু ত্রাণ এখনো পাইনি।”
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বৌবাজারের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘিঞ্জি এলাকা, সরু পথ ও পানির সংকটের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯টি ইউনিটের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা আনুমানিক ১,৫০০ হলেও নির্ভুল সংখ্যা তদন্তের পর জানা যাবে। তিনি বলেন, “এ এলাকার সংকীর্ণ পথ ও যানজটের কারণে আগুন লাগার পর গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে।”
আগুনের পরের রাত কড়াইলে ছিল অন্ধকার, ধোঁয়া আর অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভরা—মানবিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজন এখন প্রকট।
আপনার মতামত লিখুন :