রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের অর্থপাচার–দুর্নীতির অভিযোগে নতুন অধ্যায়

সাবেক সচিব ড. প্রশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ১১:২৫ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায়–এর বিরুদ্ধে অবশেষে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার ও বুধবার, পরপর দুই দিনেই কমিশনের শীর্ষস্তরে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় বলে জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে—
ড. প্রশান্ত তার সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫১ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং বিবরণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ৭৭ লাখ টাকার অবৈধ স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায় তদন্তে:
ড. প্রশান্ত নিজের নাম ও দুই মেয়ের নামে খোলা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৮ কোটি ৫৩ হাজার ৭১৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এসব অর্থ বিভিন্ন সময় তুলে নেওয়া বা স্থানান্তর করা হয়েছে—যা মানি লন্ডারিং–এর স্পষ্ট প্রমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে।

২০২৩ সালের ৫ জুন দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দুদক সিদ্ধান্ত নেয়, ড. প্রশান্তের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪–এর ২৬(২), ২৭(১) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২–এর ৪(২), ৪(৩) ধারায় চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়—রাষ্ট্রীয় প্রকল্প ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।
সাধারণ জনগণ ও নাগরিক সমাজও দুদকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের আশাবাদ—উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যদি জবাবদিহিতার আওতায় আসেন, তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়বে, দুর্নীতি রোধেও আসবে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে নতুন করে সরব হয়েছে জনমত, আর ড. প্রশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন সেই আলোচনায় যুক্ত করল নতুন অধ্যায়।