মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া ইরান-সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৫, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মাদুরোকে আটকের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ইয়ার ল্যাপিড তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে, তা ইরান সরকারের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের কারণ ভিন্ন হলেও মাদুরোর বিরুদ্ধে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, এতে বিশ্ব পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুললেও সমালোচকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ইরান-ভেনেজুয়েলা ঘনিষ্ঠতা, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ইস্যুতে সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ইরান সরকার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এদিকে মাদুরোকে সরালেও ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ট্রাম্প তাকে লক্ষ্য করেও কঠোর হুমকি দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারলে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ধাক্কা সামাল দিতে সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামগ্রিকভাবে মাদুরোকে আটক করার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।