ইরানে সামরিক হামলার বিকল্প বিবেচনায় ট্রাম্প, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নয়


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১১, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ন

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সামরিক হামলার সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। তবে এখনো তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপিত বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও কিছু বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাবও রয়েছে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হুঁশিয়ারির দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিক্ষোভ ইতিমধ্যে সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানিয়েছেন, সরকার কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অতীতের মতো জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। যদিও তিনি স্থলবাহিনী পাঠানোর ইঙ্গিত দেননি।

এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ইরানের বিক্ষোভ পরিস্থিতি, সিরিয়া ও গাজার প্রসঙ্গ উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।

তবে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এতে ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনীতিকদের ওপর পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, মাত্র ছয় মাস আগে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরান, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।