ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঠেকাতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হামলা না চালাতে রাজি করাতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ তথ্য জানান।
সৌদি কর্মকর্তা জানান, উপসাগরীয় এই তিন দেশ ইরানকে ‘ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর সুযোগ’ দিতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে শেষ মুহূর্তে দীর্ঘ ও তৎপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংলাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানে বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ায় কাতারে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকা মার্কিন মিশনের কর্মীদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
মার্কিন প্রশাসন আগেই সতর্ক করেছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরান কঠোর হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌযানে হামলার হুমকি দেয়। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চল অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ঠেলে যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প অবস্থান পরিবর্তন করে জানান, ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর মতে, এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতাই বড় ভূমিকা রেখেছে।
সৌদি কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—ইরানে হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া ও অস্থিরতার সূত্রপাত করবে। অন্য এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানান, ইরানকে এটিও বোঝানো হয়েছে যে উপসাগরে মার্কিন স্থাপনায় হামলা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :