ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র এক দিন বাকি। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ।
সকাল থেকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, প্রবেশপথ ও টিকিট কাউন্টার ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। আগেই কোচের আসনের টিকিট শেষ হয়ে গেলেও যাত্রীচাপ কমেনি। অনেক ট্রেনে দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। ঝুঁকি জেনেও কেউ কেউ ট্রেনের ছাদে উঠে যাত্রা করতে দেখা গেছে।
সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হলেও কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সারি ছিল। শত শত মানুষ টিকিট না পেয়ে ফিরে যান। কেউ কেউ স্ট্যান্ডিং টিকিট পেলেও অনেকের ভাগ্যে সেটিও জোটেনি।
ভিড় ও ভোগান্তির মাঝেও স্টেশনে ছিল উৎসবের আবহ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন। অনেকের চোখেমুখে ভোট দিতে পারার আনন্দ স্পষ্ট।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছে। যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিং ও টিকিট যাচাই শেষে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী রাশেদুল হাসান বলেন, “নিজে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা খুব আনন্দের। তাই আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম।”
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী জুবায়ের রহমান বলেন, “অনেক বছর পর ভোট দিতে পারছি। আমরা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে চাই।”
এদিকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসে ছাদে যাত্রী বহনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন ধরেই বাড়তি যাত্রীচাপ দেখা যাচ্ছে। ভোট উপলক্ষ্যে দীর্ঘ ছুটির কারণে যাত্রীসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। চাপ সামাল দিতে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। বুধবার ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৬টি মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল করছে।
আপনার মতামত লিখুন :