সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার দাবি, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ৪, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ন

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। এই স্থাপনাটিই সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার।

বুধবার সকালে হামলাটি সংঘটিত হয় বলে সৌদি সরকারের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। হামলার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, একটি ড্রোন রাস তানুরার শোধনাগার এলাকায় আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি ড্রোন হামলা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তবে স্থাপনাটির উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এই হামলার মাত্র দুই দিন আগেই, সোমবার, একই শোধনাগার লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে। ওই ঘটনার সময় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে গেলে সাময়িকভাবে শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে হামলার খবরে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

সৌদি আরব বা ইরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষ সংঘাত নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

ইসরায়েলে পৃথক ড্রোন হামলার দাবি

এদিকে, লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ–এর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের একটি সামরিক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতেও হামলার কথা জানিয়েছে তারা।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে এসব হামলা চালানো হয়। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ প্রযুক্তিসহ সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উৎপাদন করে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইসরায়েল—উভয় দেশের কৌশলগত স্থাপনায় হামলার এসব খবরে মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।