ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৫০০–র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ দাবির সঙ্গে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে; তাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাবে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়েছেন।
লারিজানি লেখেন, কয়েক দিনের মধ্যেই শত শত মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, নাকি ইসরাইলের।
বর্তমানে লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংক্ষিপ্ত এক সতর্কবার্তায় তিনি বলেন, সংঘাতের পরিণতি এখানেই শেষ নয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় খামেনিসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
ইরানের সরকারি হিসাবে, কয়েক দিনের লড়াইয়ে দেশটিতে প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি হামলায় বহু স্কুলশিশুর মৃত্যুর খবরও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানায়।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তাবও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে বলে লারিজানি জানান। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।
আপনার মতামত লিখুন :