মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে সৌদি আরব। রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ইরানই।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলাকে “গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাও প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। ইরান অভিযোগ করেছিল, সৌদি ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, আকাশসীমায় টহল দেওয়া বিমানগুলো মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে মোতায়েন ছিল।
রিয়াদ আরও জানিয়েছে, ইরান যদি একই ধরনের হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তা শুধু বর্তমান উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় রাজধানীর কাছাকাছি আল খারজ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে অন্তত দুইজন নিহত হন। এছাড়া রাজধানী, একটি বিমানঘাঁটি ও একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সৌদি আরব।
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :