ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে উদ্বেগ জাগাল, সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া সাম্প্রতিক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি এবং লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি।” তবে তিনি স্পষ্ট কোনো সময়সীমা বা কূটনৈতিক আলোচনার পরিকল্পনা উল্লেখ করেননি। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহে বাধা আসতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে।

তেলের দাম বাড়ার কারণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমবর্ধমান হামলা তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। সম্প্রতি কাতার জলে ‘কাতারএনার্জি’র লিজ নেওয়া একটি ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের হামলা সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেবা বলেন, “ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক উদ্যোগের কোনো ইঙ্গিত না থাকার কারণে বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।”

বর্তমান দাম ও প্রভাব

বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেলে ১০৭.৪৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা ৬.৩৩ ডলার বা ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেলে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৫.২৮ ডলার বা ৫.৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, এপ্রিল থেকে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে তেলের সরবরাহ সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু আমেরিকার নয়, বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহণ খাত এবং শিল্প উৎপাদনের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে।