সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমাল সরকার


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সরকার পরিচালন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সংযম আরোপ করেছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করে সরকারি ব্যয়ের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে এই পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে। পরিপত্রটি ইতোমধ্যে সকল সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ব্যয় সংকোচনের মূল দিকনির্দেশনা

নতুন নির্দেশনায় সরকারি সম্পদ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলো হলো—

  • সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
  • সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত এবং কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে।
  • অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় (প্রশিক্ষণ ভাতা ছাড়া) ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • সভা, সেমিনার ও সম্মেলনের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য আয়োজন ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে।
  • সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • যানবাহন, নৌযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়েছে।
  • সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে।
  • আবাসিক ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
  • নতুন ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় সম্পূর্ণরূপে স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন কার্যক্রমে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ মোকাবিলার বাস্তবধর্মী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর।