দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ঝড়ো আবহাওয়া ও বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার দুপুরের পর সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলায় পৃথক ঘটনায় এসব মৃত্যু ঘটে।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি পাঁচজন, রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছেন।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হন, যাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া একটি টিনের ছাউনিতে বজ্রপাত হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় নদীর তীরবর্তী হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অন্তত তিনজন আহত হন। আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরে মাঠে যাওয়ার পর আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা এলাকাতেও বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ধান তোলার সময় হাওরে কাজ করা কৃষকরা আকস্মিক বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের পাশাপাশি গবাদিপশুরও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও মাঠে থাকা গরু-ছাগল মারা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়ায় খোলা মাঠ, জলাশয় বা হাওরে কাজ না করার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি ঝড়ের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ে, তাই সচেতনতা ও আগাম সতর্কতাই হতে পারে প্রাণহানি রোধের প্রধান উপায়।
আপনার মতামত লিখুন :