ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনায় ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় পাকিস্তান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

ইসলামাবাদ, ২১ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। তবে পাকিস্তান সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় অংশগ্রহণ বিষয়ে তেহরানের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ২২ এপ্রিল ভোরে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আলোচনায় অংশগ্রহণ বিষয়ে ইরানের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি বেকার-এর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে ইশাক দার বলেন, আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, নাটালি বেকার আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংলাপ এগিয়ে নিতে দেশটির উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা গত ৮ এপ্রিল শুরু হয় এবং ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। তবে এই সময়ের মধ্যেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে, ফলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

তবে ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ভিন্ন কৌশলে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।