ঢাকায়ও লোডশেডিং করা হবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ন

দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা এবং কৃষিখাতে সেচ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জাতীয় সংসদে এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, গ্রামীণ কৃষক যাতে সেচ সংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। ফলে ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সামাল দিতে হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি, শুধু গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতির চাপ না দিয়ে শহরেও তা ভাগ করে নেওয়া হলে সেচ মৌসুমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা সহজ হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সংকট তাৎক্ষণিক নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার ফল। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি করছে। দৈনিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, যা সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সরকারের আশা, সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

জ্বালানি খাত বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত প্রতীকী হলেও এর বাস্তব প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাহিদা বণ্টনের নতুন কৌশল দেখা যাচ্ছে, যেখানে কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তবে নগরবাসীর মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প, ব্যবসা এবং দৈনন্দিন নাগরিক সেবায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখন বড় প্রশ্ন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি আপাতত পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকারমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সাময়িক ভোগান্তির কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এখন নজর, এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে তা কতটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।