হরমুজ ইস্যু ও যুদ্ধবিরতি আগে, পারমাণবিক আলোচনা পরে—তেহরানের ধাপভিত্তিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত ওয়াশিংটনের

ইরানের নতুন প্রস্তাবে ট্রাম্পের আপত্তি, পরমাণু সমঝোতার আগেই অবরোধ প্রত্যাহারে অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরান যে নতুন তিন-ধাপের প্রস্তাব দিয়েছে, তার কেন্দ্রীয় একটি শর্তে আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অবরোধ প্রত্যাহারকে পরমাণু আলোচনার আগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে—পারমাণবিক সমঝোতা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে অগ্রগতি হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র আগে হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দর ঘিরে আরোপিত মার্কিন অবরোধ শিথিল করুক। কিন্তু তার প্রশাসনের অবস্থান হলো—প্রথমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বাধ্যতামূলক সমঝোতা, এরপর অন্য ইস্যুতে আলোচনা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো তেহরানের নতুন প্রস্তাবে তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ভবিষ্যতে মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ইরানি বন্দর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং প্রণালি পরিচালনার নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে—উল্লিখিত দুই পর্যায়ে সমঝোতা হলে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে।

এই কাঠামোকেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে—এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আগে সেই বিষয়ে সমঝোতা হতে হবে, তারপর অন্য আলোচনা।”

মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ বহাল রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও কার্যকর চাপ সৃষ্টি করছে এবং তেহরানকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অচলাবস্থার মূল কারণ হচ্ছে আলোচনার অগ্রাধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মৌলিক মতপার্থক্য। ইরান যুদ্ধবিরতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে তাৎক্ষণিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চাইছে, আর যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু কর্মসূচিকে ‘প্রধান শর্ত’ হিসেবে ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও দ্রুত অগ্রগতির সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ উভয় পক্ষ এখনো নিজেদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি করছে। তেলবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ ইস্যুকে কোন ক্রমে সমাধান করা হবে—এই প্রশ্নে সমঝোতা না এলে ওয়াশিংটন-তেহরান অচলাবস্থা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। আপাতত অবরোধ, চাপ ও সীমিত কূটনীতির সমান্তরাল পথেই এগোচ্ছে দুই দেশ।