চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বেইজিং যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এটি তার প্রথম চীন সফর।
দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। সফরে তার সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ভারত সফরের পরপরই এই চীন সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চীনে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য—বিশেষ করে কাঁঠাল—রপ্তানি, এবং গুয়াংজু ও সাংহাইয়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া চীনা শিল্প স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং Belt and Road Initiative-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচ্যসূচিতে থাকবে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন-এর সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।
সফরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য চীন সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধের মধ্যে সেই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :