যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (ইউএসটিআর)-এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি কোনো মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির প্রথম বাংলাদেশ সফর।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সফরকালে ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, কৃষি এবং অর্থনৈতিক নীতি সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত এই সফরে একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে, বিনিয়োগ বাধা কমবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা। পাশাপাশি আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য বাজার সুবিধা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি যন্ত্রপাতি এবং মোটরযান খাত। একইসঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্য সহজীকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং অশুল্ক বাধা কমানোর উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সফরটি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :