গাজীপুরে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা-র মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন একটি অর্ধগলিত লাশ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ।
শনিবার দুপুরে ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মরদেহটি ফোরকানের হতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি-র ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তে জটিলতা রয়েছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে একাধিক দল অভিযান চালায়। এরই মধ্যে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সেতুর রেলিং টপকে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান হতে পারেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। গাড়িচালক জানিয়েছেন, যাত্রী নিজেকে আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণে ভ্রমণে যাচ্ছেন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।
এর আগে গত ৮ মে দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ঘটে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডটি। এতে নিহত হন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন কন্যা মীম, উম্মে হাবিবা ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
ঘটনার পরদিন সকালে ফোরকান তার স্বজনকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা জানানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ঘর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কিছু নথি, মদের বোতল ও অন্যান্য আলামতও জব্দ করা হয়।
তদন্তকারীরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা—সবকিছু মিলিয়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :