ট্রাম্পের সফরের পরই বেইজিংয়ে পুতিন, নতুন বার্তা দিচ্ছে চীন-রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর চীন সফরের ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করতে পারে।

বার্তা সংস্থা আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ ও ২০ মে বেইজিং সফর করবেন পুতিন। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে রাশিয়া-চীনের ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত রাশিয়া-চীন ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব আনুষ্ঠানিক ঘোষণার চেয়েও অনেক বেশি।

ট্রাম্প-শি বৈঠকে অগ্রগতি সীমিত

সম্প্রতি প্রায় ৪০ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে বেইজিং যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সফরে বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হলেও ইরান, তাইওয়ান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে চীন শান্তিপূর্ণ সমাধান ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দেয়। বেইজিং প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো কড়া অবস্থান নেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল, হরমুজ প্রণালি ও ইরান ইস্যুতে চীন আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক। তবে বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়েছে, বেইজিং এখনো ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।

চীন-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২২ সালে চীন ও রাশিয়া ‘সীমাহীন অংশীদারিত্ব’-এর ঘোষণা দেয়। এরপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ভরসায় পরিণত হয় চীন।

বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি, তেল ও বিভিন্ন পণ্যের বড় ক্রেতা বেইজিং। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মস্কো ও বেইজিং প্রায়ই একে অপরের কৌশলগত অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

গত মাসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং আরও ‘ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী কৌশলগত সমন্বয়’-এর আহ্বান জানান। এর আগে মস্কো সফরে গিয়ে তিনি ‘একতরফা আধিপত্যবাদী চাপের’ বিরুদ্ধে রাশিয়ার পাশে থাকার কথাও বলেছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফরে প্রত্যাশিত ফল না আসার পর পুতিনের বেইজিং সফর নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরান, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন-রাশিয়ার সমন্বয় পশ্চিমা জোটের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করছে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের সম্পর্ককে শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত জোট হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।