ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৬০ কিলোমিটার যানজট


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ২৭, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

ঈদুল আজহার শেষ মুহূর্তের ঘরমুখো যাত্রায় আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। টানা বৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হওয়া এবং অতিরিক্ত যানচাপের কারণে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হয়ে যমুনা সেতুর মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে থেমে থেমে যান চলাচল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে থাকা যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে খোলা যানবাহনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

গাজীপুর অংশে মঙ্গলবার রাত থেকেই যানজটের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করলে মহাসড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ভোগড়া থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম জানান, অতিবৃষ্টি, যানবাহনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি হওয়া এবং সড়কের সীমিত সক্ষমতার কারণে যানজট তৈরি হয়েছে। তবে বুধবার ভোরের পর থেকে গাজীপুর অংশে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের গোড়াই এলাকা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত যানজট সবচেয়ে বেশি তীব্র আকার ধারণ করে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় উত্তরাঞ্চলমুখী তিন লেনের সড়কে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকার বলেন, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশজুড়ে ধীরগতির যান চলাচল ও যানজট রয়েছে। বৃষ্টি ও সড়কের বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও দ্রুত তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তবে যমুনা সেতু অতিক্রম করার পর উত্তরাঞ্চলের সড়কগুলোতে তুলনামূলক স্বস্তি ফিরেছে। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, সেতুর ঢাকামুখী অংশে কিছুটা চাপ থাকলেও সেতু পার হওয়ার পর উত্তরবঙ্গগামী সড়কে বড় ধরনের যানজট নেই।

ঈদযাত্রার শেষ সময়ে মহাসড়কের এই পরিস্থিতি আবারও দেশের সড়ক অবকাঠামো, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প পরিবহন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সমাধান এখনও দৃশ্যমান হয়নি।