বিপৎসীমার ওপরে পাঁচ নদীর পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ন

টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি প্রধান নদীর পানি ৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তাল সমুদ্রের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

যেসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া মনু নদীর পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

সতর্কসীমার কাছাকাছি আরও কয়েকটি নদী

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা, সুরমা ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও সতর্কসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিতেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উজানের ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।