দলীয় প্রতীক হিসেবে কেন ‘শাপলা’ চাইছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নামে প্রকাশিত প্রায় ১৩০০ শব্দের এ ব্যাখ্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, আত্মপ্রকাশের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও যোগাযোগে ‘শাপলা’ প্রতীককে তালিকাভুক্ত করার আশ্বাস পান এনসিপি নেতারা। গত ২২ জুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদনকালে প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ সংরক্ষণের আবেদনও জানানো হয়।
তবে ৯ জুলাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এনসিপি জানতে পারে, শাপলা জাতীয় প্রতীক হওয়ায় কমিশন এটিকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে অনুমোদন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনসিপি দাবি করে, কমিশনের এই ব্যাখ্যা আইনসঙ্গত নয় এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এনসিপির যুক্তি, সংবিধান, জাতীয় প্রতীক সংক্রান্ত ১৯৭২ সালের আইন ও বিধিমালায় কোথাও শাপলাকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ায় বাধা নেই। জাতীয় প্রতীকের চারটি উপাদানের মধ্যে ধানের শীষ ও তারকা ইতোমধ্যেই দুটি রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে শাপলাও প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত আইনি ভিত্তিহীন এবং বৈষম্যমূলক। নাহিদ ইসলামের দাবি, পুলিশের লোগোতে ধানের শীষ, বিমান বাহিনীর লোগোতে ঈগল, সুপ্রিম কোর্টের লোগোতে দাঁড়িপাল্লা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি, এবি পার্টি ও জামায়াতকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের লোগোতে শাপলার অংশ থাকায় এনসিপিকে প্রতীক না দেওয়া নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এনসিপি মনে করে, শাপলাকে প্রতীক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার পেছনে কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতিত্ব কাজ করেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে ব্যাহত করবে।
আপনার মতামত লিখুন :