রাজধানীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহক সংগঠনের পৃথক কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা দেখা দেয়।
সকালে কয়েক হাজার চাকরিচ্যুত কর্মী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন এবং তাদের পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’ একই স্থানে পূর্বঘোষিত সমাবেশ শুরু করার আগে কর্মীরা স্থান ত্যাগ করেন।
গ্রাহকদের সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নূরুন নবী মানিক পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কথিত অনিয়মে জড়িতদের গ্রেফতার, দেশি-বিদেশি সম্পদ উদ্ধার, বিতর্কিত আইনি ধারা বাতিল এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা গ্রাহকদের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের ‘জোরপূর্বক দখল’ বা অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির মালিকানা, পরিচালনা কাঠামো এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মাঠপর্যায়ের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :