বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিকল্প নীল জার্সি পরে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জার্সির রঙ নিশ্চিত করেছে।
এই সিদ্ধান্তের পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরে এসেছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি, যেখানে একই নীল জার্সি গায়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালে আটলান্টায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা নীল জার্সি পরবেন, আর ইংল্যান্ড খেলবে তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সিতে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ফিফার প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সিতেই মাঠে নেমেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। সেই ম্যাচেই তিনি ফুটবল ইতিহাসের দুটি স্মরণীয় মুহূর্ত—‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—উপহার দেন। ফলে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবারও নীল জার্সির ব্যবহার ম্যাচটিকে বাড়তি ঐতিহাসিক আবহ এনে দিয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে সাদা জার্সি ব্যবহার করেছে। শুধুমাত্র গ্রুপ পর্বে পানামার বিপক্ষে লাল জার্সি পরে খেলেছিল তারা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে একবারই নীল জার্সি ব্যবহার করেছে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে, যেখানে তারা ৩-১ গোলের জয় পায়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি হবে আর্জেন্টিনার চতুর্থবার নীল জার্সি পরে মাঠে নামা। এর আগে ১৯৬২, ১৯৮৬ এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে একই রঙের জার্সিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। তবে ১৯৬৬ ও ২০০২ সালের আসরে আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা হোম জার্সিই ব্যবহার করেছিল।
ফিফার প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বে ব্র্যাকেটের উপরের দিকে থাকা দল ‘টিম এ’ হিসেবে হোম জার্সি ব্যবহারের অগ্রাধিকার পায়। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড সেই সুবিধা পাওয়ায় তাদের সাদা জার্সি বহাল রাখা হয়েছে। দুই দলের জার্সির মধ্যে পর্যাপ্ত রঙের পার্থক্য নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার জন্য বিকল্প নীল জার্সি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়, ম্যাচ কর্মকর্তা এবং দর্শকদের জন্য মাঠে দুই দলকে সহজে আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :