ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী প্রার্থীকে গণধর্ষণের হুমকিদানের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী হুসেনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, “এটি বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডারে প্রদত্ত প্রক্টরের এখতিয়ারভুক্ত সর্বোচ্চ শাস্তি।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সদস্য আলী হুসেনের বিরুদ্ধে গঠিত প্রক্টরিয়াল সত্যানুসন্ধান কমিটির সুপারিশের আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার শ্রেণি রোল ৫৪ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২০২০২১২৭৬৮।
গত রোববার ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম, ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদের ডাকসু প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ৫ আগস্টের আগে ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ থাকার পরও তিনি কীভাবে ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের জিএস প্রার্থী হলেন, তা চ্যালেঞ্জ করে এই রিট করা হয়।
সোমবার রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করলেও, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তা স্থগিত করে।
ওই দিন বিকালে ফাহমিদা আলমকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেন আলী হুসেন। তিনি তার পোস্টে লিখেছিলেন, “হাই কোর্টের বিপক্ষে এখন আন্দোলন না করে আগে একে গণধর্ষণের পদযাত্রা করা উচিত।” এই পোস্টটি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি করে।
সোমবার রাতেই ছাত্রশিবির ও ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান হৃদয় আলী হুসেনের বিরুদ্ধে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আলী হুসেনকে ‘শিবির নেতা’ অভিহিত করে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কও তার দ্রুত শাস্তি দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই আলী হুসেনকে বহিষ্কারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :