বাংলার মুখ ডেস্ক
সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও খ্যাতনামা অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার চারটি ফ্ল্যাট, ১০ কাঠা জমি এবং ১৬টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
দুদকের পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম জানান, জব্দ হওয়া ফ্ল্যাটগুলোর মধ্যে রমনায় দুটি, গুলশানে একটি (আংশিক) এবং বড় মগবাজারে একটি (আংশিক) ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের মোট মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল নিউ টাউনে তার ১০ কাঠা জমির মূল্য ৩৩ লাখ টাকার বেশি।
আবেদনে বলা হয়, নূরের অর্জিত সম্পদের উৎস স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলমান থাকায় তিনি যেন এ সম্পদ হস্তান্তর বা গোপন করতে না পারেন, সে কারণে জব্দ ও অবরুদ্ধের আবেদন জানানো হয়। দুদকের হিসাবে, বর্তমানে তার ১৬টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই নূরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নূর বিপুল অঙ্কের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ গড়ে তোলেন। তার ১৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা এবং ৭৩ কোটি টাকা উত্তোলনের অস্বচ্ছ লেনদেন পাওয়া গেছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অপরাধ।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতেই আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :