সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন বলেছেন, একাই পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংস করে দিয়েছেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার। তিনি মন্তব্য করেন, যেমন একজন মানুষ চাইলে একটি ব্যাংক ধ্বংস করতে পারে, তেমনি এক-দুজন সৎ পরিচালকও একটি ব্যাংকের সফলতা নিশ্চিত করতে পারেন।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতের সংকট, সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় তিনি জানান, দেশে মোট ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা সমস্যাপূর্ণ বা ‘ডিস্ট্রেসড’। বিদেশি ছাড়া ৫০টি স্থানীয় ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ৪০টিই মানসম্মত নয়। এর মধ্যে ১৫টি ‘জম্বি ব্যাংক’, যার অর্ধেকই লুটপাটের শিকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন মাহমুদ ওসমান ইমাম মূল প্রবন্ধে বলেন, খেলাপি ঋণ ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে ব্যাংক খাতের সংস্কার জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। অনেক জম্বি ব্যাংকে ঋণের ৯০ শতাংশই খেলাপি। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংস্কারের প্রস্তাব দেন।
প্যানেলে আরও আলোচকরা বলেন—
-
মোহাম্মদ আলী, এমডি, পূবালী ব্যাংক: ২০২৫ সালের জুন নাগাদ খেলাপি ঋণ আরও ১.৫ ট্রিলিয়ন বাড়তে পারে। তারল্য সংকটে অনেক আমানতকারী টাকা তুলতে পারছেন না।
-
সোহেল আর কে হোসেন, এমডি, ব্যাংক এশিয়া: ১২টি ব্যাংক কার্যত দেউলিয়া হলেও রেটিং এজেন্সি, দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। হুইসেলব্লোয়িং নীতি শক্তিশালী করা, রেটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
সবশেষে আলোচকরা বলেন, কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :