ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় স্বীকার করেছেন, তার মায়ের সরকারের সময় কিছু ভুল হয়েছিল। তবে তিনি জাতিসংঘের সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে—আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমনে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে এসোসিয়েটেড প্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যদি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুলে নেয় এবং সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না করে, তবে বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল থাকবে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন হবে। সেই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়, অনেকে দেশত্যাগ করেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও সিপিজেসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি ইউনূস সরকারের কাছে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংগঠনের অধিকারের পরিপন্থী।
জয় বলেন, আওয়ামী লীগকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না দিলে নির্বাচন কোনো পক্ষেই গ্রহণযোগ্য হবে না। তার দাবি, শেষ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে নির্বাচন এক ‘প্রহসনে’ পরিণত হবে।
বর্তমানে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর জামায়াতে ইসলামী আবার রাজনীতিতে ফিরেছে। জয় সতর্ক করে বলেন, অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে ইসলামপন্থিরা লাভবান হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার ইসলামপন্থিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘ডাইনী শিকার অভিযান’ চালাচ্ছে। তার ভাষায়, “হাজারো আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে, ৫০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে, ৩১ জন হেফাজতে প্রাণ হারিয়েছেন।” সংখ্যালঘুরাও এখন টার্গেট, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়—বলেন জয়।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস
আপনার মতামত লিখুন :