সরকার উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি এখন বিচারের জন্য প্রস্তুত। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম ইশরাত জেনিফার জেরিন মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামিরা অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৬১ জন পলাতক। তাদের হাজিরের জন্য প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তির প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়েছে। এর পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ অসংখ্য মামলা হয়। পাশাপাশি জুলাইয়ের সংঘাতকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর এক অনলাইন মিটিংয়ে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন।
এই মামলায় সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি অধিকাংশ আসামি পলাতক।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও ভারত এখনো তাতে সাড়া দেয়নি।
তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত পরবর্তীতে অভিযোগ গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এ মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে।
আপনার মতামত লিখুন :