সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। বাংলাদেশ অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনার গ্রেফতারের দিন থেকেই সাজা কার্যকর হবে।”
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
রায়ের পর উচ্ছ্বসিত একদল বিক্ষোভকারী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলেও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রসঙ্গত, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আগেও বুলডোজার নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সোমবার সকালেও পুলিশের উপস্থিতিতে দুইটি বুলডোজার প্রবেশে বাধা পায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রদের পরিচয় জানা গেছে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত।
জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একজন সরকারের প্রধানের মৃত্যুদণ্ড দেশের ইতিহাসে প্রথম, বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের।” তিনি বলেন, “এ রায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের আশা পূরণ করেছে।”
এর বিপরীতে, শেখ হাসিনা তার রায়কে “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে নিন্দা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি নিস্ক্রিয় করার জন্য আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।” তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পূর্বে বিচারকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, তিনি তার “মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত রেকর্ড নিয়ে গর্বিত” এবং অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :