দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলার, যা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড গড়েছে প্রবাসী আয়। মাসটির ৩১ দিনে মোট ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই প্রবাহের বড় অংশ বহন করেছে, যেখানে মোট ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিই রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে তারা সতর্ক করেছেন, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা রিজার্ভের ওপর ভবিষ্যতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :