দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার সকাল থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এ বছর মোট প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বৃহৎ মূল্যায়ন কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা সামান্য বেশি হলেও ছাত্রীদের অংশগ্রহণও প্রায় সমান। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ রয়েছে।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে দাখিল পরীক্ষায় কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডে সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে প্রায় চার হাজার কেন্দ্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগেভাগেই শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। অভিভাবকরাও সন্তানদের সঙ্গে এসে সহায়তা করছেন, বিশেষ করে প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করতে।
পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বিদ্যমান পাবলিক পরীক্ষা আইনে ডিজিটাল অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি কঠোরভাবে দমন করা যায়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ ধরনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। তবে সমন্বিত প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদার থাকলে পরীক্ষা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :