বিএটিবির ২০২৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: আইনি লড়াইয়ে এনবিআর


​বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ন

বহুজাতিক তামাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের (বিএটিবি) কাছ থেকে ২০১৬ সালের অপরিশোধিত সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ পাওনা ২০২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা আদায়ে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৫০০ কোটি টাকার ওপর বকেয়া থাকা হাই-প্রোফাইল রাজস্ব মামলাগুলোর মধ্যে এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে সংস্থাটি।

​আইনি জটিলতা কাটিয়ে বিপুল অংকের এই বকেয়া আদায় ত্বরান্বিত করতে হাইকোর্ট বিভাগে বিএটিবির দায়ের করা রিট মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট)। এ লক্ষ্যে দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে এলটিইউ-ভ্যাট।

​ঘটনার পটভূমি ও প্রশাসনিক ধারা:
​শুরু ও প্রত্যাহার: ২০১৬ সালের ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকির বিপরীতে এনবিআরের উত্থাপিত দাবিনামাটি ২০২১ সালের ১৭ জুন মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ৫৫(৩) ধারায় হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
​প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া ও তদন্ত: এত বিপুল পরিমাণের রাজস্ব দাবি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সৃষ্টি হয় সংশয় ও প্রশ্ন। পরবর্তীতে এই দাবিনামা প্রত্যাহারের আইনগত যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়।
​পুনরায় তলব: গঠিত কমিটির টানা পর্যালোচনার ধারাবাহিকতায় দেখা যায় প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে ছিল না। ফলে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট এনবিআর বিএটিবিকে পুনর্নিরীক্ষণ ও শুনানির জন্য হাজির হতে নোটিশ পাঠায়।
​হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ:
এনবিআরের উক্ত শুনানির নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করে বিএটিবি, যার ফলে পুরো রাজস্ব দাবির নিষ্পত্তির বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারে ঝুলে রয়েছে।
​বিশাল অংকের এই বকেয়া আদায় সম্ভব হলে সরকারের কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব যোগ হবে। ফলে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং শুনানির নিষ্পত্তির ওপরই এখন নির্ভর করছে রাষ্ট্রের এই ২০২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার ভবিষ্যৎ।