ফেসবুকে পরিচয়ে পরকীয়া, দুই মাসের সম্পর্কে ভাঙল ১৬ বছরের সংসার


আবেদ হোসাইন, যশোর প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ৪:৫২ অপরাহ্ন

ফেসবুকে মাত্র দুই মাসের পরিচয়ে পরকীয়ার জেরে ভেঙে গেল এক স্বর্ণকারের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবন। ১২ বছরের কন্যা সন্তানকে রেখে স্বামীকে ত্যাগ করে এক পরকীয় প্রেমিকের সঙ্গে নতুন ঘর বাঁধতে চান গৃহবধূ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া সেই ভার্চুয়াল প্রেম শেষ পর্যন্ত বাস্তবে গিয়ে দাঁড়ায় বিবাহবিচ্ছেদে।

ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হরিদাসকাঠি গ্রামের কর্মকারপাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের এক স্বর্ণকারের স্ত্রী ফেসবুকে অভয়নগরের সমসপুর গ্রামের দুই সন্তানের জনক রাকেশ হৃদয় (৩২)-এর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।

স্বামী হাজিরহাট বাজারে জুয়েলার্সের ব্যবসা করায় সকালে কাজে বের হয়ে রাতে বাড়ি ফিরতেন। এই সুযোগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হওয়া রাকেশের সঙ্গে গৃহবধূর যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে শুরু হয় নিয়মিত ফোনালাপ, মেসেঞ্জারে চ্যাটিং, এবং শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় প্রেমে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে হাজিরহাট এলাকায় যখন উৎসবমুখর পরিবেশ, তখনই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় তাদের সম্পর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এক রাতে গৃহবধূ প্রেমিক রাকেশকে নিজের ঘরে ডেকে আনেন।

রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্বামী বাড়ি ফিরে ঘরে ঢুকে দেখেন, স্ত্রী ও প্রেমিক আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষোভে তিনি ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা মেরে দেন। পরদিন সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তালা খোলা হয় এবং প্রেমিক রাকেশ ও গৃহবধূকে জনসম্মুখে আনা হয়।

ঘটনাস্থলে তখন আশপাশের শত শত মানুষ জড়ো হয়। উত্তেজিত জনতা তাদের বাঁধা অবস্থায় মারধর করে। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শালিসি বৈঠক গৃহবধূ প্রকাশ্যে জানান, তিনি আর স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান না। প্রেমিক রাকেশকে বিয়ে করে তার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে চান।

স্বামী বলেন, আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। এই কলঙ্কিনী স্ত্রীর সঙ্গে আর সংসার করা আমার পক্ষে অসম্ভব।”শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ১৬ বছরের সংসার আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়।

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। সামাজিকভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা আমরা শুনেছি।